, ,

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp

২০১৫ সালে ইয়্যুর্গেন ক্লপ যখন লিভারপুলের দায়িত্ব নেন তখন ইংল্যান্ডের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ক্লাবটি যথারীতি ডুবে ছিলো ব্যর্থতার মায়াজালে। এক দশকের বেশি সময় ধরে নেই ইউরোপে রাজত্ব করার অভিজ্ঞতা, দুই যুগের বেশি সময় ধরে দেখা নেই লিগ শিরোপার। এমন সময় ক্লপের আগমণে লিভারপুল যেনো খুঁজে পেলো আশার আলো, ধীরে ধীরে হারানো সব জৌলুস ফিরেয়ে দিয়ে ক্লপ শুধু ক্লাব ইতিহাসের সফলতম কোচদের একজনের মর্যাদাই পাননি, তিনি হয়ে ওঠে এই ক্লাবের অভিভাবক। দলের ভালো সময় কিংবা খারাপ সময়, নিজের সেরাটা যেমন তিনি নিঙড়ে দিয়েছেন তেমনি অল রেডদের সমর্থকেরা তাকে বিশ্বাস করেছে চোখ বন্ধ করে!

গত মৌসুমটা খুব একটা ভালো না যাওয়ার পরও লিভারপুল ফ্যানরা খুব একটা আক্ষেপে পোড়েনি কেননা তাদের যে এক ক্লপ আছে। সেই ক্লপই মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে এসে হুট করে জানিয়ে দিলেন এটাই হতে যাচ্ছে লিভারপুলের কোচ হিসেবে তার শেষ মৌসুম! তার এই হঠাৎ ঘোষণায় লিভারপুল ভক্তদের মাথায় যেমন আকাশ ভেঙে পড়েছিলো তেমনি পুরো ফুটবল বিশ্ব হতবাক হয়ে যায়। মৌসুমের দুর্দান্ত শুরু, সব ট্রফির দৌড়ে টিকে থাকাকালীন সময়ে কোচদের এমন সিদ্ধান্তে সাধারণ দেখা যায় ক্লাবের সাথে কোনো বৈরিতা। তবে ক্লপের সাথে লিভারপুলের কোনো সমস্যা যে ছিলো না তা আগেই ছিলো অনুমেয় কিন্তু কেন তার এই সিদ্ধান্ত? ক্লপের সোজাসাপটা উত্তর, এই দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার মতো শক্তি তার আর নেই। শক্তিহীন শরীর নিয়ে কাজ চালিয়ে গিয়ে লিভারপুলের সাথে বেইমানি করতে চাননি এই জার্মান মাস্টারমাইন্ড!

গতকাল শেষবারের মতো ইউরোপীয় ক্লাব টুর্নামেন্টে লিভারপুলের দায়িত্ব পালন করেছেন ক্লপ

ক্লপের সেই ঘোষণার পরও মাঠে সময়টা খারাপ যাচ্ছিলো না লিভারপুলের। তবে মৌসুমের শেষ ভাগে এসে লিভারপুলের মাঠের পারফরম্যান্স দেখে প্রশ্ন উঠতেই পারে, শক্তি এক ক্লপেরই হারিয়েছে নাই নাকি পুরো লিভারপুল দলটাই ভুগছে শক্তিহীনতায়?
যে দলটা মৌসুমের প্রথমভাগে একচেটিয়া রাজত্ব চালিয়েছে প্রতিটি টুর্নামেন্টে, সেই দলটাই এখন বিদায় নিচ্ছে জঘন্যভাবে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কাছে হেরে এফএ কাপ থেকে বিদায়, লিগে একের পর এক দুর্বল পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে বারংবার হারিয়েছে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ স্থানে থাকার সুযোগ, যে এনফিল্ড প্রতিপক্ষের বুকে কাঁপন ছড়িয়ে দেয় সেই এনফিল্ডেই তুলনামূলক দুর্বল দলের কাছে নাকানিচুবানি খাচ্ছে অল রেডরা, এই এনফিল্ডে বিধ্বস্ত হওয়ার ক্ষতিপূরণ হিসেবে ইউরোপা লিগ থেকে বিদায় নিয়েছে সালাহরা!

লিভারপুল দলটা যে এই মুহূর্তে একেবারেই চালিকাশক্তি খুঁজে পাচ্ছে না তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ হতে পারে গতকাল আটালান্টার বিপক্ষে ম্যাচটি, প্রথম লেগে ৩-০ গোলে পিছিয়ে থাকার পর ২য় লেগে ম্যাচের ৭ মিনিটেই পেনাল্টি থেকে গোল পাওয়ার পর লিভারপুল আরো উজ্জীবিত হয়ে লড়াই করবে এটাই ছিলো ফুটবল প্রেমিদের প্রত্যাশা, কিন্তু কোথায় সেই উদ্যম? একের পর এক মিস, ভুল পাস এমনকি ম্যাচের শেষ ১০ মিনিটে ২ গোলে পিছিয়ে থাকা লিভারপুল নিজেদের অর্ধেই খেলেছে বেশিরভাগ সময় ধরে। শুধুমাত্র এই ম্যাচেই না, সর্বশেষ ৪/৫ ম্যাচে সালাহ-নুনেজদের খেলার ধরণ দেখে যে কারো মনে হবে এই মৌসুমটা শেষ করতে পারলেই যেনো হাফ ছেড়ে বাঁচে লিভারপুল, অথচ এই মৌসুমের শুরুটা এমন ছিলো যে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে পিছিয়ে পড়ার পরও সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট অর্জন করা দলটার নাম লিভারপুল!

মৌসুমের শেষ ভাগে এসে সালাহরা যেনো দিশেহারা!

গতকাল অবশ্য ক্লপ বলেছেন ভিন্ন কথা, তার মতে আটালান্টার বিপক্ষে ২য় লেগে দলের পারফরম্যান্সে তিনি খুশি, দলের মধ্যে নাকি দেখা গিয়েছে প্রতিশ্রুতি রক্ষার চেষ্টা। তবে ক্লপের এই কথাগুলো আসলেই সত্যি নাকি বিদায়ের আগে দলটার মনোবল ভেঙে না দেওয়া সর্বোচ্চ চেষ্টা তা বলা মুশকিল তবে এমনটা চলতে থাকলে লিভারপুলের পরবর্তী কোচের জন্য কাজটা যে বহুগুণ জটিল হতে যাচ্ছে তা বোঝার জন্য খুব বেশি ফুটবল জ্ঞানের প্রয়োজন থাকার কথা না। এখন দেখার বিষয় ক্লপ তার শেষ কয়েকদিনে দলটাকে উজ্জীবিত করে তার প্রতিশ্রুতি দেয়া লিভারপুলের নতুন ভার্সন তিনি পরবর্তী কোচকে উপহার দিয়ে যেতে পারেন কিনা!

শেয়ার করুন

আরো পড়ুন

ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের শীর্ষ আসর চ্যাম্পিয়নস লিগ মানেই তারায় তারায় টক্কর, সেই তারার লড়াই যদি হয় বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার সিটি […]

Scroll to Top